Wilson Walker Canada নামে একটি কানাডিয়ান ফার্ম আছে যারা কোন অগ্রিম টাকা ছাড়াই ওয়ার্ক পারমিট এর প্রসেসিং করে বলে থাকে। এদের ব্যপারে হয়তো অনেকেই জেনে থাকবেন তবে কেউ যদি এখনো না এগিয়ে থাকেন তো আপনি বিপদে পড়েনি বা প্রতারিত হননি। আমি এদের ব্যপারে ভালভাবে খোঁজ খবর নেয়ার পরই আপনাদের কে এই ব্যপারে জানাচ্ছি। আপনাদের এই তথ্য দেবার আগে আমি ব্যক্তিগতভাবে কানাডায় আমার বন্ধু এবং পরিচিতজনদের দিয়ে এই ফার্ম এর ব্যপারে খোঁজ নিয়েছি এবং তারা আমায় খুব একটা ভাল রিপোর্টই দেয়নি। বর্তমানে আমি আমার কাছের দু’জন বন্ধুর ফাইল প্রসেস করে এদের প্রতারণার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি। ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন এর টাকা নেয়াটাই ওদের ব্যবসা।
এদের ফাইল প্রসেসিং বা প্রতারণার ধাপ বা সিস্টেম অনেকটা এই রকম…
১। একাউন্ট খোলাঃ আপনার কানাডা ওয়ার্ক পারমিট প্রসেস করতে সর্বপ্রথম আপনার নামে এদের ওয়েবসাইট এ একাউণ্ট ওপেন করুণ। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি। এতে অবশ্যই ইংরেজিতে আপনার নাম, ঠিকানা, লিঙ্গ, দেশ, ফোন নাম্বার এবং ভ্যালিড ইমেইল আইডি দিতে হবে। একাউণ্ট সাইন আপ এর সাথে সাথে এদের তরফ হতে আপনার মোবাইল এবং ইমেইল এ একটি কম্পিউটার জেনারেটেড অটো কনফার্মেশন মেসেজ আসবে।
২। জীবন বৃত্তান্ত জমাঃ একাউণ্ট ওপেন করার পর আপনার জীবন বৃত্তান্ত আপলোড করুণ। এটি করতেও আপনাকে কোনরূপ টাকা প্রদান করতে হবে না। এটি পিডিএফ ফরম্যাট এ করবেন। জীবন বৃত্তান্ত এ সাদা বেকগ্রাউণ্ড এ সদ্য তুলা ছবি এটাচ করে জমা দিবেন এবং এতে অবশ্যই ইংরেজিতে আপনার নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ফোন নাম্বার এবং ভ্যালিড ইমেইল আইডি থাকতে হবে।
৩। জীবন বৃত্তান্ত বাছাইঃ আপনার জমা দেয়া জীবন বৃত্তান্ত, কাজের অভিজ্ঞতা এবং আপনি যে ক্যাটাগরিতে আবেদন করেছেন তার জন্য আপনি যোগ্য কি না ? তা ওরা বাছাই এবং যাচাই করবে। তাই দয়া করে কোন মিথ্যা তথ্য দিবেন না। এটি প্রসেস করতে ওদের ১৫/২০ দিন বা এর কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। এর জন্যও আপনাকে কোন টাকা দিতে হবে না।
৪। এপ্রুভাল লেটারঃ আপনি প্রাথমিক বাছাই এ টিকে গেলে আপনার একাউণ্ট এর ড্যাশ বোর্ড এ আপনার এপ্রুভাল লেটার জমা হবে। এটি মূলত একটি প্রি-এপ্রুভাল লেটার যা ঐ ফার্ম আপনাকে দিবে। এটি পাওয়ার মানে হচ্ছে আপনার জন্য উপযুক্ত কোন চাকুরী কানাডার কোন কোম্পানিতে আছে আর ওরা আপনার কাজটি করে দিতে আগ্রহী। আপনার এপ্রুভাল লেটার আসার পর তা আপনাকে ফোন/মেসেজ/ইমেইল এর মাধ্যমে জানিয়ে দেবে। যদি অন্য কোন মাধ্যম হতে আসে তবে বুঝতে হবে আপনি প্রতারিত হচ্ছেন। এই ধাপেও আপনার কোন টাকা খরছ নেই।
৫। ডকুমেণ্টস যাচাইঃ আপনার এপ্রুভাল লেটার আসার পর ২০ দিনের মধ্যে আপনার ইভালুয়েশন রিপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে হবে। অন্যথায় আপনার এপ্রুভাল লেটার বাতিল হয়ে যাবে। আপনার প্রদত্ত সকল কাগজপত্র ও তথ্য ওদের নির্ধারিত তৃতীয় এবং নিরপেক্ষ একটি ফার্ম এর মাধ্যমে নিরীক্ষণ করা হবে। তাই কোন অবস্থাতেই ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিবেন না। এ ক্ষেত্রে ১৫০০০ টাকা ভেরিফিকেশন চার্জ প্রযোজ্য হবে, যা ঐ নিরীক্ষণকারী সংস্থা নিবে। এক্ষেত্রে ২৫/৩০ দিন বা তার কম সময় লাগতে পারে।
৬। কোম্পানিতে ডকুমেন্টস জমা দানঃ আপনার ইভালুয়েশন রিপোর্ট হাতে পাবার পর (যদি সব ঠিক থাকে) ওরা তা কানাডাতে একটি বা একাধিক কোম্পানির নিকট জমা দিবে যে বা যারা আপনাকে নিয়োগ দান করবে বা করতে আগ্রহী। কোম্পানির নিকট আপনার সকল কাগজপত্র সহ জমা এবং পরবর্তী প্রসেসিং এর জন্য ২/৩ মাস লাগবে আর এর জন্য আপনাকে কোন টাকা দিতে হবে না।
৭। ফোন বা ভিডিও কনফারেন্স ইণ্টারভিউঃ আপনার সকল কাগজপত্র নিয়োগ দানকারী প্রতিষ্ঠান হাতে পাবার পর তারা আপনার একটি ইন্টারভিউ নিবে আবার নাও নিতে পারে। এই ধাপটি সম্পূর্ণই নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এর উপর নির্ভর করে। এই পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হতে ১/২ মাস সময় লাগবে আর কোন টাকা দেবার প্রয়োজন নেই।
৮। পাসপোর্ট পাঠানোঃ আপনার ইণ্টারভিউ বা এই ধাপটি সম্পন্ন হয়ে গেলে আপনার পাসপোর্ট এর কালার কপি কানাডাতে পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে ৫০০০ -৭০০০ টাকা (আনুমানিক) কুরিয়ার চার্জ প্রযোজ্য হবে। আর এটি অতি দ্রুত ওদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনাকে ওদের হাতে পৌছাতে হবে।
৯। চাকুরী নিশ্চিত করণ বা কাজের অনুমোদনঃ কানাডার নিয়োগ দানকারী প্রতিষ্ঠান পাসপোর্ট কপি হাতে পাবার সাথে সাথে আপনার নিয়োগপত্র এবং ওয়ার্ক পারমিট সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাগজ তৈরির ব্যবস্থা নিবে। যার মধ্যে আপনার LA লেটার, LMO লেটার ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং আপনাকে নিতে ঐ দেশের সকল সরকারী ফিস তারাই প্রদান করবে।
১০। মেডিকেল এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রত্যয়নঃ ৯ম ধাপটি সম্পূর্ণ হবার সাথে সাথেই আপানকে আপনার দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ হতে মেডিকেল এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০০০০ -২৫০০০ টাকা (আনুমানিক) মেডিকেল (কানাডা এম্বাসি নির্ধারিত) এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট (মিনিস্ট্রি এটাষ্টেশন সহ) চার্জ প্রযোজ্য হবে। এতে ১৫/২০ দিন সময় লাগতে পারে।
১১। এম্বাসিতে ফাইল জমা দেয়াঃ ৯ম এবং ১০ম ধাপ সম্পন্ন হবার পর আপনি নিজে আপনার ফাইলটি কানাডা এম্বাসিতে জমা করবেন। এ ক্ষেত্রে ৩০০০০ টাকা (আনুমানিক) এম্বাসি ফিস প্রযোজ্য হবে। ফাইল প্রসেস করতে হাইকমিশন ৪/৬ মাস সময় নিতে পারে।
১২। বিমান টিকিট এবং যাত্রাঃ দেশের সকল কাজ গুছিয়ে বিমান টিকিট ক্রয় করে যত দ্রুত সম্ভব যাত্রা শুরু করুণ। মনে রাখবেন কাজে যোগদানের নির্ধারিত তারিখের আগেই কানাডা পৌঁছে আপনার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং কানাডায় অবস্থিত রিক্রুটিং এজেন্সিতে রিপোর্ট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা (আনুমানিক) বিমান ভাড়া প্রযোজ্য হবে।
১৩। কানাডায় আগমন এবং কাজে যোগদানঃ কানাডায় পৌঁছে নির্ধারিত দিনে আপনার কর্মস্থলে যোগদান করুণ। এখানেও ওরা আপনার কাছ হতে কোন চার্জ নিবে না।
১৪। কানাডা এজেন্সির ফিস প্রদানঃ আপনি কানাডা কাজে যোগদানের পর প্রথম মাসের বেতন হাতে পাবার পরই কেবল কানাডা এজেন্সি আপনার কাছ হতে আপনার বেতনের ৫০% তাদের সার্ভিস চার্জ হিসেবে কেটে নিবে। এরপর ওদেরকে আর কোন টাকা দিতে হবে না।
ওদের ওয়েবসাটে উপরেল্লিখিতথ্য দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে থাকে। তাই এদের ব্যাপারে সাবধান থাকবেন। এদের কাছ হতে কোন ইমেইল এলেও এর কোন উত্তর দিতে যাবেন না।
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =
ফ্রি অ্যাসেসমেন্ট বা আরও বিস্তারিত জানতে, সঠিক পরামর্শ অথবা সহযোগিতা পেতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
সতর্কতাঃ
– – – – – – –
প্রদত্ত সকল তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা দেশের বর্তমান ও প্রচলিত আইন বা নিয়ম অনুযায়ী। সংশ্লিষ্ট বিভাগ, সংস্থা বা সরকার তা যে কোন সময় পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন এবং বাতিল করতে করতে পারে।
© All Rights Reserved BICAVS 2012-2020